বাংলাদেশের নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় মেয়েদের একটি আবাসিক কওমি মাদ্রাসায় একজন ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠার পর অভিযুক্ত শিক্ষককে আটকের জন্য অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তবে গত কয়েক মাসে দেশের বিভিন্ন জায়গায় আবাসিক মাদ্রাসায় প্রায় একই ধরনের বেশ কয়েকটি যৌন নির্যাতনের ঘটনার কারণে সারাদেশের আবাসিক মাদ্রাসাগুলোতে শিশু-কিশোর, বিশেষ করে মেয়ে শিশুদের নিরাপত্তার প্রসঙ্গটি সামনে এসেছে।
প্রশ্ন উঠছে, আবাসিক মাদ্রাসায় থাকা মেয়েদের যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত কীভাবে করা হচ্ছে এবং কারা এগুলোর দেখভাল করছে। আবার এ ধরনের মাদ্রাসা দেশে কতগুলো আছে সেগুলোর পুর্ণাঙ্গ তথ্যও খুব একটা পাওয়া যায় না।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, কওমি আবাসিক মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনা পুরোটাই এর প্রতিষ্ঠাতা বা মালিকের নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং তিনিই তার মতো করে এগুলো চালান। কোনও কোনও জায়গায় একটি পরিচালনা কমিটি থাকলেও সেটি মালিকের নির্দেশেই পরিচালিত হয়।
আবার মাদ্রাসা বোর্ড থেকে তদারকির কথা থাকলেও বড় আকারের সুপরিচিত মাদ্রাসাগুলো ছাড়া অন্য কওমি মাদ্রাসার যেগুলো ছোটো বাচ্চাদের হিফজ শিক্ষাদান করে সেখানে তদারকি বলতে কিছু নেই।
আবার পুলিশ বা প্রশাসন মাদ্রাসার বিষয়ে নিজ থেকে উদ্যোগী হয়ে কোনও পদক্ষেপ নিতে চায় না ধর্মকেন্দ্রিক অপপ্রচারের আশঙ্কায়।
ইসলাম বিষয়ক লেখক ও গবেষক মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ বলছেন শক্ত মনিটরিং ও নিশ্ছিদ্র জবাবদিহিতার ব্যবস্থা নিশ্চিত হলে মাদ্রাসাকেন্দ্রিক নৈতিক বিচ্যুতির যেসব ঘটনার অভিযোগ আসছে সেগুলো থেকে মাদ্রাসাগুলোকে নিরাপদ রাখা যাবে।
কওমি মাদ্রাসার ছয়টি বোর্ডের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মাদ্রাসা বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ (বেফাক হিসেবে পরিচিত)-এর অধীনে। এর সহকারী মহাপরিচালক মাওলানা ইসমাইল হোসেন বলছেন, তাদের অধীনে থাকা মাদ্রাসার জন্য ৩০ জন পরিদর্শক আছেন, যারা নিয়মিত মাদ্রাসা পরিদর্শন করে থাকেন।

